রাজশাহীতে গঠিতহলো প্রথম পিস অ্যাম্বাসেডরস নেটওয়ার্ক (প্যান)

রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো গঠিত হলো পিস অ্যাম্বাসেডর নেটওয়ার্ক বা প্যান। রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলার পিস অ্যাম্বাসেডর ও কো-অর্ডিনেটরদের নিয়ে ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত এই প্যান এর নাম দেয়া হয়েছে ‘সিল্ক সিটি প্যান’।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের ফরেন কমনওয়েল অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অফিস-এফসিডিও’র অর্থায়নে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ডস্ট্যাবিলিটি-এমআইপিএস প্রকল্পের অধীনে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করছেন পিস অ্যাম্বাসেডররা।প্রত্যেকেই তাঁরা নিজ উপজেলার পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ-পিএফজি’র সদস্য। পিস অ্যাম্বাসেডর নেটওয়ার্ক-প্যান গঠনের মাধ্যমে উপজেলার বাইরে আরও বড় পরিসরে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজের সুযোগ তৈরি হলো। প্যান গঠনের মাধ্যমে একদিকে যেমন পিস অ্যাম্বাসেডরদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের পথ তৈরি হলো, পাশাপাশি প্যান সদস্যগণ এখন নতুন আইডিয়া নিয়ে বড় পরিসরে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারবেন।  

২৬ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাজশাহীর একটি অভিজাত রেস্তোরায় এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় রাজশাহী জেলার পবা, তানোর, মোহনপুর, বাঘা, গোদাগাড়ি, দূর্গাপুর, বাঘমারা, চারঘাট ও পুঠিয়া; এই নয়টি উপজেলার ৪৫ জন সদস্য নিয়ে প্যান গঠন করা হয়। রাজশাহীর রেশম শিল্পের ঐতিহ্যকে ধারণ করে সর্বসম্মতিক্রমে নবগঠিত প্যান এর নাম দেয়া হয় সিল্ক সিটি প্যান।

কর্মশালার সূচনা হয় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমআইপিএস এর রাজশাহী ক্লাস্টার এর এরিয়া কো-অর্ডিনেটর এসএম শফিকুর রহমান। উপস্থিত সদস্যদের পরিচয়পর্বের পর এমআইপিএস প্রকল্প সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন দেন প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. নাজমুন নাহার নূর। পরে প্যান এর কাঠামো, গঠনের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে তুলে ধরেন এমআইপিএস এর জেন্ডার অ্যান্ড ইয়ুথ এমপাওয়ারমেন্ট এক্সপার্ট শারমীন সুলতানা।

কর্মশালায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিতে পবা উপজেলা থেকে শেখ মোহাম্মদ মকবুল হোসেনকে কো-অর্ডিনেটর ও তানোর উপজেলা থেকে মাহমুদুল আলম মাসুদকে সদস্য সচিব নির্বাচন করেন সদস্যের প্যান নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদ আলি সাংগঠনিক সম্পাদক, রানু আক্তার কোষাধ্যক্ষ এবং আবদুল মালেক, একেএম মোহাইমিনুল হক, অধ্যাপক মেসবাহ উল হক, আবুল কালাম আজাদ ও এনামুল হক নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন। বাকিরা সাধারণ সদস্য হিসেবে থাকবেন। প্যান এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাহী কমিটিতে প্রত্যেক উপজেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়।

নবনির্বাচিত প্যান কোঅর্ডিনেটর শেখ মোহাম্মদ মকবুল হোসেন তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, প্যান গঠনের ফলে রাজশাহীতে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাঁরা আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন।

নির্বাহী কমিটির নির্বাচন শেষে পিএফজির বাইরে কী কী কার্যক্রম নেয়া যায় তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন প্যানস দস্যরা। এছাড়াও প্রত্যেক সদস্যের প্রোফাইল ও একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরির সিদ্ধান্ত হয় কর্মশালায়।