দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর উদ্যোগে টেকসই পুষ্টির জন্য বৈশ্বিক জোট বিষয়ক প্রকল্পে শিক্ষণ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আত্মনির্ভরশীল, সমৃদ্ধ, মর্যাদাবান বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিগত তিন দশক ধরে সারা দেশে নানাবিধ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। মা ও শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মার্চ ২০২৩ থেকে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ‘Global Alliance for Sustainable Nutrition (GASN)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের ৮টি জেলার ৮টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের অভিজ্ঞতা, শিক্ষণ ও চ্যালেঞ্জ শেয়ারিং এর লক্ষে অংশিজনদের সাথে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সকাল ১০:৩০টায় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্রান্ড মার্ক হোটেলে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর ইন্টেরিম কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, সংস্থার পরিচালক জমিরুল ইসলাম, এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে জাতির সমৃদ্ধি। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে একটি সুস্থ জাতি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধশালী দেশ উপহার দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে স্বাগত জানিয়ে প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের জন্য বৈশ্বিক পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত বহু অংশীজনের মধ্যে যে সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে সেটির একটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র হলো জিএএসএন প্রকল্প। এক্ষেত্রে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট পুষ্টি উজ্জীবকদের মাধ্যমে মায়েদের সঙ্গে সবার প্রয়োজনীয় যোগসূত্র নিশ্চিত করে এবং তৃণমূলের সকলকে স্ব স্ব ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করে।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, জিএএসএন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বেশ কয়েকটি কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: ১. পুষ্টি উজ্জীবক তৈরি; ২. মা ও শিশু-যত্নকারীদের আচরণগত উৎকর্ষ সাধন; ৩. মা ও শিশু-যত্নকারীদের এমএমএস প্রদান; ৫. স্বাস্থ্যকর ওয়াশ-ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ও অনুশীলন।

সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হয় এবং জানানো হয় যে, ইতোমধ্যে ১৫ হাজার ৩৪৩ জন গর্ভবতী মা এমএমএস (মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট) গ্রহণ করেছেন, ৫ বছরের নিচে ৬ হাজার ৯৬১ শিশু এমএমএস গ্রহণ করেছে, ৫০০টি মাদার্স ক্লাব সক্রিয় রয়েছে, প্রায় ৫ হাজারটি সেশনে প্রায় ১৫ হাজার মা ও শিশু-যতœকারী অংশগ্রহণ করেছেন, পুষ্টি উজ্জীবক হিসেবে ১৫০ জন নারীনেত্রী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, হানড্রেড ওয়াশ ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন কমিউনিটির প্রায় ১ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন, পুষ্টি কার্যক্রমে ৫০০ গ্রাম উন্নয়ন দলকে (ভিডিটি) সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে অংশগ্রহণকারীগণ উপরিউক্ত কার্যক্রমের বিভিন্ন শিক্ষা ও চ্যালেজ্ঞ তুলে ধরেন।