বিশিষ্টজনদের মন্তব্য

বিশ্ববিস্তৃত ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূরীকরণের ব্রত নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা হিসেবে ১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশে এ সংস্থাটি কার্যক্রম পরিচালনা করা শুরু করে ১৯৯১ সালে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট
আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন সময় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব, কয়েকজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিত্ব ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সংস্থা ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে
জানিয়েছেন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া/মন্তব্য, যার কিছু নিচে তুলে ধরা হলো

'আমি জেনে আনন্দিত যে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট মানুষের গতানুগতিক পরনির্ভরশীল বিশ্বাসের পরিবর্তন করে এবং মানুষকে সংগঠিত করে আত্মনির্ভরশীল কিশোরগঞ্জ জেলা তথা বাংলাদেশ গঠনে ব্রতী হয়েছে। আমার মতে, এটি একটি ব্যতিক্রমী অভিযান।'
মোঃ আব্দুল হামিদ
মহামান্য রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
'স্থায়ী বা টেকসই উন্নয়নের জন্য মানুষকে ক্ষমতায়িত করা, তাদের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলা, তাদের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন। মানুষের চিন্তা-চেতনার একটি বিল্পবী পরিবর্তন আনার জন্য দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তা আমি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।”'
জিল্লুর রহমান
সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
'আপনাদের কার্যক্রম সারা বিশ্বে ক্ষুধার প্রবাহমানতা সম্পর্কে আমাদেরকে অধিকতর সচেতন করছে। ইতিমধ্যে ২৫টির বেশি দেশের জনগণকে তাদের নিজেদের চেষ্টায় ক্ষুধামুক্তির জন্য আপনারা সহযোগিতা করছেন। আপনারা যেমন বলছেন, এই ক্ষুধামুক্তি হবে স্থায়ী। এমন অবদানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের কাছে ঋণী।'
বিল ক্লিনটন
সাবেক রাষ্ট্রপতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
'আমি আনন্দিত যে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার লক্ষ্যে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগুচ্ছে। তারা অনুসন্ধান করছেন, কিসের জন্য বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা বিরাজমান।'
অমর্ত্য সেন
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ
'আমরা অবহিত যে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কর্মধারা ও শ্লোগান হলো- ‘আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়া’। আমরা আরও জানি যে, এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ১৩টি বৈশিষ্ট আছে। সমস্ত উদ্যোগের উদ্দেশ্য স্থানীয় সমাজকে এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে সংগঠিত ও তাদেরকে শক্তিশালী করা। ... প্রতি উজ্জীবকের মনে রাখা প্রয়োজন- প্রচলিত ব্যবস্থা থেকে কতো সেবা আদায় করা যায় এবং কতো ভালো এবং সহজভাবে আদায় করা যায় সেদিকেই উদ্ভাবনী কৌশলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে।'
আবুল মাল আব্দুল মুহিত
সাবেক অর্থমন্ত্রী
'ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে, আমরা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর একসঙ্গে কাজ করছি। ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা ঊষার দুয়ার আঘাত হানবো, আমরা বাধার বিন্দাচল অতিক্রম করে বিজয়ের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবো।'
ওবায়দুল কাদের
যোগাযোগমন্ত্রী
'বাজার অর্থনীতির যুগে এই যুগে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা একটি বিরাট ব্যাপার এবং উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উজ্জীবকরা এই দৃষ্টান্ত মূলক কাজটি প্রতিনিয়ত করে চলেছেন।'
অধ্যাপক রেহমান সোবহান
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি
'ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি কখনোই দরিদ্র থাকে না। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট সারাদেশের যুব সমাজের আত্মশক্তির স্পূরণ ঘটাতে যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তাকে আমি অভিনন্দন জানাই।'​
শেখ হাসিনা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
'কোনো সরকারের পক্ষেই মানুষের সকল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়-এ সত্যটি উজ্জীবকরা উপলব্ধি করে তারা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, দৃঢ় ইচ্ছা আর আত্মশক্তি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। আমার বিশ্বাস, উজ্জীবকরা যে চেতনা ও বিশ্বাস থেকে কাজ করছে তার মাধ্যমেই দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব।'​
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি
'দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর বহুবিদ সাফল্য রয়েছে। বিশেষত মানব সম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচির ক্ষেত্রে। এ সকল কর্মসূচি ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতৃত্বকে একত্রে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।'​
নেলসন ম্যান্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী
'আমি জাতিসংঘের মহাসচিব থাকাকালীন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর ‘আফ্রিকা প্রাইজ ফর লিডারশিপ’ উদ্যোগের সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে গৃহীত তাদের অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে জড়িত হওয়ারও সুযোগ হয়। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট একটি ব্যতিক্রমী, কৌশলগত সংগঠন।'​
পেরেজ-ডি-ক্যুয়েলার
সাবেক মহাসচিব, জাতিসংঘ
'মা’কে (দেশকে) কীভাবে রোগমুক্ত করা যায়, তা আমাদের সকলকেই আজ ভাবতে হবে। আশার কথা, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর উজ্জীবকরা সে ঔষধ ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছেন। মায়ের রোগ সারাতে তারা এরইমধ্যে কাজে নেমে গেছেন। অনেককে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। এখন আমাদেরও সকলকে একত্রিত হয়ে কাজে নামতে হবে।'​
ড. কামাল হোসেন
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি
'আমি বিশ্বাস করি, সমাজ থেকে সকল প্রকার অনাচার দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ক্ষুধামুক্ত আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে উজ্জীবকদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো অবশ্যই সফল হবে। যার মাধ্যমে বিশ্ব পরিমণ্ডলে আমাদের বিদ্যমান নেতিবাচক অবস্থানের পরিবর্তন হবে এবং সকলেই আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে।'​
সুলতানা কামাল
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
'উজ্জীবকরা এক ব্যতিক্রমী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। বাংলাদেশে এই ধরনের কাজ খুব বেশি হয়নি। আমি এজন্য দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-কে বিশেষ ধন্যবাই জানাই। আমি দেখতে চাই যে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর সাথে ব্র্যাক-এর এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যে সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং তার মাধ্যমে যে আন্দোলন গড়ে উঠবে তাতে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।'​
স্যার ফজলে হাসান আবেদ, কেসিএমজি
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, ব্র্যাক

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে বিশিষ্টজনদের মন্তব্য পিডিএফ আকারে দেখতে ক্লিক করুন