এসডিজির স্থানীয়করণে করণীয় নির্ধারণে “পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর শিক্ষণ অভিজ্ঞতা বিনিময়”

এসডিজির স্থানীয়করণে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর এক শিক্ষণ বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি ০৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, সকাল ১০.০০টায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নুরুল আমিন। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার, পরিচালক নাছিমা আক্তার জলি এবং উপ-পরিচালক জমিরুল ইসলাম।
সভার শুরুতে উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে “Localizing the SDGs” শীর্ষক একটি উপস্থাপনা পেশ করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। উল্লেখ্য, এমডিজি ও এসডিজি অর্জনে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষণ নিয়ে এই উপস্থাপনাটি তৈরি করা হয়।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (এসডিজি) জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্ধারিত হলেও এগুলো বাস্তবায়িত হতে হবে বিভিন্ন দেশে, মূলত তৃণমূল পর্যায়ে। এর জন্য অবশ্য প্রয়োজন হবে যথার্থ নীতি-কাঠামো এবং জনগণের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া। আর এসবের দায়িত্ব অবশ্য সরকারের। তবে জনগণের উদ্যোগ এবং তৃণমূলের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ছাড়া এসডিজি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘এমডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। আমি মনে করি, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রেও আমরা সফলতা অর্জন করতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’ বহুদিন থেকেই জনগণকে উদ্বুদ্ধ-অনুপ্রাণিত এবং তাদের অন্তর্নিহিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মূলত জনগণের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, তৃণমূলের একদল স্বেচ্ছাব্রতীকে সংগঠিত করে এবং নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্বে ২০১০ সাল থেকে আমরা ‘এমডিজি ইউনিয়ন’ গড়ার উদ্যোগ নেই, যা এখন ‘এসডিজি ইউনিয়ন কৌশল’ (SDG Union Strategy) নামে পরিচিত।’ তিনি এসডিজির স্থানীয়করণে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এসডিজির স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে বাগেরহাটের বেতাগা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে তুলে ধরেন। সভায় এ সংক্রান্ত একটি ডকুমেন্টারিও প্রদর্শন করা হয়।

ড. বদিউল আলম মজুমদার আলোচনার শেষভাগে বলেন, কমিউনিটিকে সংগঠিত ও ক্ষমতায়িত করার ক্ষেত্রে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে। পুরো সমাজকে সম্পৃক্ত করে উপজেলা পর্যায়ে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আগ্রহ প্রকাশ করছে।’ তিনি আশা করেন, সরকার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং এসডিজির স্থানীয়করণের জন্য স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোকে মূল ভরস্থাস্থল হিসেবে তৈরি করবে।

সভার শেষভাগে পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান জানান, এসডিজি অর্জনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এক্ষেত্রে সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমি যতদূর জানি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাব্রতী আন্দোলন পরিচালনা করছে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর অভিজ্ঞতাগুলো আমরা এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে করতে চাই। এজন্য প্রথমে আমাদের দি হাঙ্গার প্রজেক্ট মাঠ পর্যায়ে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা দরকার।’

ড. শামসুল আলম বলেন, ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কার্যক্রমগুলো এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক কার্যকর বলে আমি মনে করি। তবে এই সংস্থার কার্যক্রম আমাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা দরকার। এর মাধ্যমে এসব কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কীভাবে সরকারের এসডিজি অর্জনের পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যুক্ত করা যায় তা আমরা পর্যালোচনা করে দেখবো।’