পত্নীতলায় গণগবেষকদের মিলনমেলা-২০১৮: তৃণমূলে গণগবেষণা কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয়

‘যৌথ চিন্তা যৌথ শক্তি, সংগঠনে মুক্তি’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে নওগাঁর পত্নীতলায় অনুষ্ঠিত হলো ‘গণগবেষকদের মিলনমেলা-২০১৮’। ০৭ এপ্রিল ২০১৮, উপজেলা গণগবেষণা ফোরামের আয়োজনে উক্ত মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। মিলনমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব শহীদুজ্জামান সরকার এমপি এবং মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর গ্লোবাল ভাইস ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজিপুর পৌরসভা মেয়র রেজাউল কবীর চৌধুরী, পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক চৌধুরী, উদ্যোক্তা ও গণশিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক তাজিমা হোসেন মজুমদার এবং জেলা পরিষদের সদস্য আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। মিলনমেলায় সভাপতিত্ব করেন পত্নীতলা উপজেলা গণগবেষণা ফোরাম-এর সভাপতি শাহীনুর রহমান।

মিলনমেলায় জানানো হয় যে, ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর সহযোগিতায় গণগবেষণা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়েছেন পত্নীতলা উপজেলার ৬,২৪০ জন নারী-পুরুষ। এই গণগবেষকদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে মোট ১৬০টি সংগঠন। সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে এক কোটি ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি (মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত) সঞ্চয় করেছেন। এই সঞ্চয়ের একটি বড় অংশই তারা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক কাজে বিনিয়োগ করেছেন। সমিতিগুলো থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়, যারফলে অনেকে মহাজনী ও এনজিও ঋণের বেড়াজাল থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছেন। এছাড়া  কৃষিতে জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার ও সৃজনশীলতার প্রয়োগ ঘটিয়ে মাটির স্বাস্থ্যরক্ষা ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন গণগবেষকরা।

মূলত গণগবেষণা কার্যক্রম ও গণগবেষকদের সফলতাগুলো তুলে ধরা এবং আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করার লক্ষ্যেই উপরোক্ত মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার এমপি বলেন, ‘আমি জেনে অভিভূত হয়েছি যে, গণগবেষকরা শুধু নিজেদের অর্থনৈতিক মুক্তিই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন বাল্যবিবাহ ও যৌতুক বন্ধেও কাজ করছেন।’ তিনি ভবিষ্যতে গণগবেষকদের উদ্যোগে গৃহীত সকল সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের থাকার কথা জানান। এসডিজি অর্জনে গণগবেষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. বদিউল আলম মজুমদার গণগবেষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা হলেন বর্তমান সময়ের মুক্তিযোদ্ধা। মানুষ সচেতন ও সংগঠিত হলে যে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্থানীয় অনেক সমস্যার সমাধান করা যায় তা আপনারা করে দেখিয়েছেন। আপনাদের আন্তরিক অভিবাদন জানাই।’ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট গণগবেষকদের সব ভালো কাজের সাথেই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গণগবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি অধিদপ্তরগুলোর সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.