‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এ ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর রজতজয়ন্তী উদযাপন

‘একটি ক্ষুধামুক্ত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার জন্য বাংলাদেশে থেকেই আমি আমৃত্য কাজ করে যাবো’ বলে মন্তব্য করেছেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এ ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর রজতজয়ন্তী (২৫ বছর) উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি ০৫ মে ২০১৮, শনিবার, সকাল ১০.০০টায় এলজিইডি অডিটোরিয়াম, আগারগাঁও, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট সুজান মেয়ো ফ্রিংন্ড, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর নির্বাহী সদস্য ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সরকারের সাবেক সচিব এ. কে. এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার, অ্যাসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ প্রমুখ।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর ড. বদিউল আলম স্যারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, স্ব-শাসিত ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক-এর নেতৃবৃন্দ। ফুল দিয়ে বরণের পর কেক কেটে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কয়েকজন স্বেচ্ছাব্রতী নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর সাথে যুক্ত হয়ে বিগত ২৫ বছর অসংখ্য মানুষের সংস্পর্শে আসার আমার সুযোগ হয়েছে। আপনারা স্বেচ্ছাব্রতীরা আমার জীবনকে বদলে দিয়েছেন, আমার জীবনকে ধন্য করেছেন। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনারা দেশের উন্নয়নে প্রতিজ্ঞতাবদ্ধ, এটা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমার কাছে জানতে চান, বিগত ২৫ বছরে আমাদের অর্জন কী? আমি মনে করি, বিগত ২৫ বছর অনেক প্রাপ্তির বছর, অনেক গর্বের বছর। এ গর্বের কারণ হলো: ১. দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আজকে দেশের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন; ২. আমাদের প্রচেষ্টায় অনেকগুলো নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। যেমন, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক আজকে দেশের সবচেয়ে বড় নাগরিক সংগঠন এবং ‘ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার’ প্রাণউচ্চাসে ভরা তরুণদের একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে; ৩. প্রশিক্ষণ দান ও আত্মশক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা আড়াই লাখ স্বেচ্ছাব্রতী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি, যারা নিজেদের জীবনমানের পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন। আমরা মানুষের মধ্যে এই বোধ জাগানোর চেষ্টা করেছি যে, ‘আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি কখনো দরিদ্র থাকতে পারে না’। আজকে আমরা বাঙালিরা বাঙালিরা প্রমাণ করতে পরেছি যে, আমরাও আত্মনির্ভরশীল হতে পারি।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফিরে ১৯৯৩ সালে আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন অনেকেই আমাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশেই থাকবো। কারণ জীবন আমার, সিদ্ধান্তও আমার। মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমারও কিছু করার আছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে দারিদ্র্য দূর করার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি অ্যাডভোকেসি করার জন্য সুজন গড়ে তুলি।’

এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশের কল্যাণে বিগত ২৫ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মাইল ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি মানুষের কল্যাণে একজন নিবেদিত প্রাণ। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে সারাদেশে অসংখ্য স্বেচ্ছাব্রতী হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘সুজন’-এর নেতৃত্বে আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়া গড়ে তোলা এবং তথ্য অধিকার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ড. বদিউল আলম মজুমদারের অবদান অপরিসীম।’

সুজান মেয়ো ফ্রিংন্ড বলেন, ‘ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রাণপুরুষ হলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, এটা আজ প্রমাণিত। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশে অসংখ্য স্বেচ্ছাব্রতী তৈরি হয়েছে, যারা নিজেদের এবং সমাজের উন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে তৃণমূলের নারী ও কন্যাশিশুদের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন আইন ও নীতির সংস্কার ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য আপনাকে অভিবাদন জানাই।’ তিনি বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশ বিগত বছরগুলো অসামান্য উন্নয়ন সাধন করেছে। বাংলাদেশের এই উন্নয়নের গল্প পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘আমি গর্বিত ড. বদিউল আলম মজুমদারের বন্ধু হতে পেরে। আমি আমার পুরো জীবনে যে কয়জন মানুষকে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখেছি, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি অপ্রতিরোধ্য। তিনি বিগত ২৫ বছর ধরে মানুষের উন্নয়নে পুরো বাংলাদেশ চষে বেড়িয়েছেন। একটি ক্ষুধামুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং করে যাচ্ছেন এজন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিবাদন জানাই।’

সেলিনা আহমেদ বলেন, ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনের পুরোধা হলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। আমি আশা করি, এ আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়বে এবং টেকসই রূপ পাবে, যার মাধ্যমে আমাদের নারী ও কন্যাশিশুরা তাদের অধিকার পাবে, আমাদের সমাজ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’