তৃণমূলের সংগঠক রাজিয়া বেগমের গল্প

রাজিয়া বেগম পেশায় একজন সাধারণ গৃহিণী। তিনি কখনো চিন্তাই করতে পারেননি যে তার মাধ্যমে নারীরা সংগঠিত হয়ে নিজেদের পরিবর্তনের কাজ করতে পারবে। রাজিয়া বেগমের বাড়ি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে। তার স্বামী একজন দরিদ্র কৃষক।

সাংসারিক কাজের ফাঁকে একদিন তার পরিচয় ঘটে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর ইউনিয়ন সমন্বয়কারী অমর রায়ের সাথে। অমর রায়ের আমন্ত্রণে রাজিয়া বেগম ২০১২ সালে যশোর আর.আর.এফ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গণগবেষণা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা থেকে তিনি উপলব্ধি করেন, সংগঠনের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে নিজের ও সমাজের পরিবর্তন সম্ভব।

কর্মশালা থেকে গ্রামে ফিরে এসে তিনি স্থানীয় নারীদের সংগঠিত করে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সংগঠনের নাম দেন ‘পদ্ম ফুল গণগবেষণা সমিতি’। শুরুতে সমিতির দশজন সদস্য প্রতিমাসে ২০ টাকা সঞ্চয় করতে থাকেন। সমিতির কার্যক্রমে উৎসাহী হয়ে পরবর্তীতে অন্যান্য নারীরাও এ সমিতির সাথে যুক্ত হন। বর্তমানে পদ্ম ফুল গণগবেষণা সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩৩ জন এবং সঞ্চয়ের পরিমাণ এক লাখ একত্রিশ হাজার দশ টাকা (মুনাফা-সহ)। যে কোনো আর্থিক প্রয়োজনে সমিতির সদস্যদের এখন আর মহাজন কিংবা এনজিও’র কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করতে হয় না। কারণ সঞ্চয় থেকে সমিতির সদস্যদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়। সমিতি থেকে এককালীন মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়ে সদস্যরা বিভিন্ন আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ যেমন, মুদি দোকান, মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, দর্জি দোকান স্থাপন ইত্যাদির মাধ্যমে আয়-রোজগার করছেন।

এছাড়া সমিতির উদ্যোগে বিনামূল্যে বিভিন্ন আয়বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ যেমন, দর্জি, হাঁস-মুরগি পালন, বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ ও হস্তশিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণগুলো থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অনেক নারীই এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

নিয়মিত মাসিক সভায় সমিতির সদস্যরা সমিতির কার্যক্রম ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যেমন, গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন বন্ধ, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন।

রাজিয়া তার গ্রামে ‘লতা গণগবেষণা সমিতি’ নামে আরও একটি সমিতি গড়ে তুলেছেন, যার সদস্য সদস্য সংখ্যা ২৫ জন। রাজিয়া বেগম মনে করেন, নারীদের আর্থিক ও সামাজিকভাবে সংগঠিত করতে পারলে নারীর প্রতি সহিংসতা দূর হবে এবং নারীদের কাক্সিক্ষত ক্ষমতায়ন ঘটবে, যার মাধ্যমে গড়ে উঠবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.