‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

_DSC0668

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে, জনপ্রতিনিধিদের সামর্থ্য বিকাশ করতে হবে এবং তৃণমূলে সংঘটিত সিভিল সোসাইটি গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান। তিনি আজ ২৪ মার্চ ২০১৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১১.০০টায় ব্র্যাক ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর যৌথ উদ্যোগে গুলশানের স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টার-এ ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ’- প্রকল্পের শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন।

ড. আকবর আলী খান বলেন, ‘বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। কোনো সরকারই স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে তৃণমূলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে, জনপ্রতিনিধিদের সামর্থ্য বিকাশ করতে হবে এবং তৃণমূলে সংঘটিত সিভিল সোসাইটি গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকতে হবে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উন্নয়নমূলক কাজ করে প্রমাণ করতে হবে যে, তাদের শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

উল্লে¬খিত সেমিনারে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দীন খান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন ব্র্যাক-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ মুসা।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক  দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজমুদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, ব্র্যাক-এর পরিচালক আন্না মিন্জ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব এওয়াইবি সিদ্দিকী। এছাড়াও মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, দাতা সংস্থা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের উপকারভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন।

এম হাফিজ উদ্দীন খান বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের উপর অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার সরকার দুর্বল হচ্ছে। এর কারণ হলো কেন্দ্রীয় সরকার সবসময় স্থানীয় সরকারকে দুর্বল করে রাখতে চায়।’ ব্র্যাক ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট স্থ্ানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে যে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেছে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া দরকার।’

ড. মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে আইনের শাসন থাকবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে মানুষ তাদের সেবা ও অধিকার পাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা থাকলে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা সম্ভব। এজন্য জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে হবে।’

ড. বদিউল আলম মজমুদার বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে তাকে কার্যকর করতে হবে এবং এর মাধ্যমে মানুষের জীবনমানে পরিবর্তন আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করতে হলে আইনানুযায়ী পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে এবং তৃণমূলে একদল প্রশিক্ষিত ও সোচ্চার স্বেচ্ছাব্রতী তৈরি করতে হবে।’

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় সরকার উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারেনি। আগে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হতেন। এখন সেখানে তৈরি হবে রাজনৈতিক প্রভাব। এ অবস্থায় নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দলীয়করণের কারণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্বশাসন আরও কমবে।’ স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্না মিন্জ বলেন, ‘ব্র্যাক ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দু প্রতিষ্ঠান ২০১০ সাল থেকে কাজ করছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা ৬১টি ইউনিয়ন পরিষদকে বিধিবদ্ধভাবে পরিচালনা ও কার্যকর করার চেষ্টা করেছি, তৃণমূলে সিভিল সোসাইটি তৈরি করেছি এবং অ্যাডভোকেসি করেছি। এর মাধ্যমে আমরা একটি মডেল তৈরি করেছি।’

প্রসঙ্গত, ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য ব্র্যাক এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর যৌথ উদ্যোগে দেশের ৪টি জেলার ১৪টি উপজেলায় ৬১টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হয়েছে ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করা এবং এর মধ্য দিয়ে এমডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। প্রকল্পটি ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০০৯ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সেবাসমূহ প্রাপ্তিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণকে অধিকার সচেতন ও সংঘবদ্ধ করে ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এমডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.