ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ-এর ষষ্ঠদশ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

NYC 2015 -

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, সফলতা উদ্যাপন ও তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ-এর ষষ্ঠদশ জাতীয় সম্মেলন। আজ ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলনায়তন (পি এইচএ ভবন), সাভার, ঢাকায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে এক হাজারের বেশি স্বেচ্ছাব্রতী তরুণ অংশগ্রহণ করে। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর অনুপ্রেরণায় সৃষ্ট ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার ছাত্র-তরুণদের একটি সংগঠন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কবুতর উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার- গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ভাষা সৈনিক জনাব শরীফা খাতুন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য- সম্মানিত ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ড. তোফায়েল আহমেদ- স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, জনাব মুনীর হাসান- সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি, ড. এ কে এম শাহনেওয়াজ- অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যারিস্টার সারা হোসেন- নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট, জনাব খুরশীদা বেগম সাঈদ- তথ্য কমিশনার, তথ্য কমিশন এবং ড মাহবুব মজুমদার- জাতীয় কোচ, গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি প্রমুখ।

আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘নেতৃত্বের স্বপ্ন তোমাদের তরুণদের সকলের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু শুধু পরিশ্রম করেই নেতা হয়ে যায় না। কারো দুঃখ দেখলে যে কেঁদে উঠে সেই নেতা হতে পারে। তাই তোমাদের তরুণদের মধ্যেও মানুষের দুঃখবোধ দেখে কেঁদে ওঠার অনুভূতি থাকতে হবে।’
বারডেমের প্রতিষ্ঠাতা ডা: ইব্রাহিম-এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিকস রোগীর দুঃখ দেখে তিনি ডায়াবেটিকস হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন, যে হাসপাতাল থেকে অসংখ্য মানুষ আজ উপকৃত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সাফল্য ও সার্থকতা এ দুটো আলাদা বিষয়। সাফল্য বৈষয়িক, সার্থকতা আত্মিক বিষয়। সার্থক মানুষ প্রতিনিয়ত মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। যে প্রতিনিয়ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে ইতিহাস তাকেই মনে রাখে। তোমরা তরুণরা তোমাদের কাজ দিয়ে সার্থকতা অর্জন করবে এবং ত্যাগ স্বীকার করবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে পরিবেশ না থাকায়  আমাদের দেশে নেতা জন্মাচ্ছে না। তোমরা তরুণরা বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করছো, তা দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে কখনোই পরিপূর্ণভাবে স্বাধীন ছিলাম না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এটি পূর্ণতা লাভ করে। ৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছি বহির্শক্তির বিরুদ্ধে, কিন্তু বর্তমানের যুদ্ধ আমাদের নিজেদের সঙ্গে। নিজেদের লোভ-লালসা, দুর্নীতি নির্মুল করে দেশকে সমৃদ্ধ করার জন্য এ যুদ্ধ। এ যুদ্ধে তোমাদের তরুণদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তোমাদের যাত্রা নিঃসঙ্গ হতে পারে, কিন্তু সাহস ও শক্তি নিয়ে সবসময় এগিয়ে যেতে হবে।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার তরুণের একটি স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন। সারাদেশের লক্ষাধিক তরুণ এ সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের বিকশিত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে ইয়ুথরা তৃণমূলে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা এমডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমি আশা করি, তরুণরা ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তরুণদের অনুধাবন করতে হবে যে, দেশ ভাল থাকলে তারা ভাল থাকবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম ভাল থাকবে।’

অধ্যাপক শরীফা খাতুন বলেন ‘স্বাধীনতা অর্জনে বাংলাদেশের মানুষ অমানুসিক কষ্ট সহ্য করেছে। এ স্বাধীনতা রক্ষায় এবং মানুষের অধিকার আদায়ে আমাদের তরুণদের সোচ্চার থাকতে হবে।’ উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা ইয়ুথ লিডাররা সমাজ উন্নয়নে যে অবদান রেখে চলেছো তা দেখে আমি অনুপ্রাণিত। তরুণদের মধ্যে রয়েছে সাহস্য ও শক্তি। তারা বিশ্বায়নের এ যুগে অনেক কিছু ধারণ করতে পারে, নিত্য নতুন জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করতে পারে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে পারে। এ অবস্থায় আমাদের উচিত হবে তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়া।’

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘আপনারা তরুণরা বিভিন্নভাবে সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। আপনারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন আছেন, কিন্তু কীভাবে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আপনারা আইনি অধিকার আদায়ে বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবেন, এমনটা আশা করি। মানুষের কথা বলার অধিকার, সভা-সমাবেশ করার অধিকার এবং তথ্য জানার অধিকার যাতে কখনো ক্ষুণ্ন না হয়, সেজন্য আপনারা তরুণরা সোচ্চার থাকবেন। এক্ষেত্রে আপনারা সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও সোচ্চার থাকতে পারেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.