‘পিস অ্যাম্বাসাডার’দের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

_DSC0064বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক একটি দৃঢ় সম্পর্ক। আমি আনন্দিত যে, আপনারা (শান্তিদূতগণ) রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় এবং জাতিগত ভিন্নতা ছাড়িয়ে আপনাদের গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন কার্যকর উপায়ে সমস্যা ও বিতর্কের সমাধান করতে। মার্শা বার্নিকাট আরও বলেন, ‘নির্বাচনী সহিংসতা সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি হবে না। কিন্তু শান্তির দূত হিসেবে সহিসংতাবিহীন ভবিষ্যত নির্বাচনের স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে সমাজে আপনারা ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবেন। মনে রাখবেন, সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার টঝঅওউ- এর মাধ্যমে আপনাদের পাশে রয়েছে।’

আজ ১৪ নভেম্বর ২০১৫, শনিবার, সকাল ১২.০০টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কনভেনশন সেন্টারে (খামারবাড়ি, ফার্মগেট) দিনব্যাপী ‘পিস অ্যাম্বাসেডরদের’ ন্যাশনাল কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব জি এম কাদের। কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কনভেনশনে ২৮টি উপজেলার প্রতিনিধি হিসেবে ৮৩ জন ‘পিস অ্যাম্বাসাডার’ তাদের এলাকার বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমস্যা এবং এ থেকে উত্তরণে তাদের গৃহীত কর্মসূচি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

_DSC0008

মার্কিন রাষ্ট্রদূত কনভেনশনে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শান্তিদূতদের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকুন। আপনি যা করছেন তা যদি কাজ না করে তবে অন্য কোনো উপায় খুঁজুন। সমাজে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন আমরা হই সেগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ের সমাধান করা কঠিন। বিকল্প কৌশল প্রয়োগ করতে ভয় পাবেন না। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে আপনার গোষ্ঠীর সাথে কাজ করার জন্য লেগে থাকার মানসিকতা প্রয়োজন।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব জি এম কাদের বলেন, ‘প্রত্যেক সমাজই চায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে। কারণ সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে সমাজ থেকে দুর্নীতি ও অপশাসন দূর হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে মানুষ তার অধিকার পায়। আর গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়। গণতন্ত্র চর্চা করলে সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ একটি দায়বব্ধতার আওতায় চলে আসে। গণতন্ত্রের মূলকথা হলো- জনগণের ক্ষমতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আর গণতন্ত্রে নির্বাচন আবশ্যক। কারণ এর মাধ্যমেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর হয়। তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে আপনারা প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারেন। সামাজিক স্থিতিশীলতা যখন থাকে না, তখনই অশান্তি তৈরি হয়। অশান্তি দূর করতে গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে এবং নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আপনারা শান্তিদূতগণ সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে যে অসাধারণ ও সাহসী কাজ করছেন তার স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু আজ আমরা বিভক্ত হয়ে গিয়েছি। ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছি বিদেশি শক্তির সাথে, আজ আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছি। তাই এদেশে পুনরায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশকে বাসযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দেয়ার পাশাপাশি জাতিকে একত্রিত করতে হবে। রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানাই- সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে আপনারা শান্তিদূতদের সহায়তা করুন।’

প্রসঙ্গত, USAID, UKAID ও IFES -এর সহযোগিতায় সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২৮টি উপজেলায় সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে ‘পিপল এগেইনস্ট ভায়োলেন্স ইন ইলেকশনস’ প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা নিরসনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে এই প্রকল্পের ‘পিস অ্যাম্বাসেডরদের’ নেতৃত্বে যে সকল সম্প্রীতি সম্মেলন, গোলটেবিল বৈঠক ও অহিংস দিবস পালিত হয়েছে, তা স্থানীয় পর্যায়ে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের চলমান সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলেই কনভেনশনে উপস্থিত সকলেই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।