সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘নির্বাচনী সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণ’

pave 2রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসই পারে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিংসতা প্রতিরোধ করতে- এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে ‘নির্বাচনী সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণ’ (People Against Violence in Elections-PAVE) উদ্যোগটি। মূলত সমাজে বিরাজমান সহিংসতা বন্ধ করে টেকসই শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যেই ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেম (আইএফইএস)-এর সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে এ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২০১৫ এ দেশের চারটি বিভাগের ২৮টি উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ‘নির্বাচনী সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণ’ উদ্যোগটি বাস্তবায়নের কাজ। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তিনদিনব্যাপী ২৮টি আবাসিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা থেকে বাছাই করা ২০ জন নারী-পুরুষ প্রত্যেকটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, নারীনেত্রী, আইনজীবী, এনজিও প্রতিনিধি, বিশেষ ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষার্থী।

প্রশিক্ষণে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল- গণতন্ত্র এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, প্রতিনিধিত্ব এবং আদর্শ প্রতিনিধির বৈশিষ্ট্য, সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার গুরুত্ব, শান্তি ও দ্বন্দ্ব, দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায়, একজন আদর্শ সহায়কের বৈশিষ্ট্য, সামাজিক বৈচিত্র্যতা রক্ষার মধ্য দিয়ে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উপায় ইত্যাদি।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীগণ নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সহিংসতা রোধে যেসব শিক্ষণীয় বিষয় এবং সুপারিশ উঠে আসে তা হলো- ১. নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে এবং শান্তি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত ও তৃণমূলে বেশি পরিমাণে আয়োজন করা দরকার; ২. রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ-সহ সকল পেশাজীবীর ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসই নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে; ৩. রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ-সহ সকল পেশাজীবীদের নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করা ও মাঝে মাঝে চা চক্রের ব্যবস্থা করা, যাতে তাদের মধ্যে এক ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়; ৪. ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও সম্প্রীতি ধারণার বিস্তার ঘটানো দরকার; ৫. রাজনৈতিক দলগুলো এবং পেশাজীবীদের সমন্বয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি গঠন করা; এবং ৬. প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের মধ্য থেকে শান্তির দূত এবং প্রেসার গ্রুপ তৈরি করা।

সর্বোপরি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ব্যক্ত করার স্বাধীনতা, তাদের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হওয়া এবং প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী-সহ সব ধরনের সহিংসতা রোধে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার গ্রহণ করা ছিল এ প্রশিক্ষণগুলোর প্রাথমিক অর্জন। উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণগুলো পরিচালনার সার্র্বিক দায়িত্বে ছিলেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সৈকত শুভ্র আইচ (মনন)।