সফলতার গল্প: নিভৃত পল্লী গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ইয়ূথ লিডার ওয়াজ্জেল হোসেন

Wazzel story (10)একজন মানুষ যখন শিক্ষিত হয়, তখন সে চায় তার আশপাশের মানুষগুলোও শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠুক। এমন একজন সমাজ সচেতন মানুষ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের ওয়াজ্জেল হোসেন, যিনি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয়দের শিক্ষিত করে তুলছেন।

নিভৃত পল্লী গ্রাম ভাটপাড়ার ওয়াজ্জেল হোসেন ২০১২ সালে অ্যাকটিভ সিটিজেন্স প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে আরও যোগ্য করে তোলার সিদ্ধান্ত নেন এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান। প্রশিক্ষণের পর ওয়াজ্জেল হোসেন ২০১৩ সালে ভাটপাড়া গ্রামে তার বন্ধুদের সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেন। প্রথমে ৩০ জন নিরক্ষর ব্যক্তিকে স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে তোলেন। এ শিক্ষা কেন্দ্রকে আরও সফল করে তোলার লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বই, চক ও ডাস্টার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।

ইতোমধ্যে ওয়াজ্জেল হোসেন-এর প্রচেষ্টায় বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৮০ জন মানুষ শুধু স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্নই হয়নি, বরং তারা সবাই পড়তে ও লিখতে পারে। তার এ সফলতার গল্প স্থানীয় পত্রিকা-সহ জাতীয় পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে এবং ভাটপাড়া গ্রাম একটি নিরক্ষরমুক্ত গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ওয়াজ্জেল হোসেন বর্তমানে বিএ ক্লাসে লেখাপড়া করছেন। আরও লেখাপড়া করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সাথে রয়েছে বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রটিকে আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করার।