নওগাঁর পত্নীতলায় গণগবেষণা সমিতির প্রথম সম্মেলন: গণগবেষণা কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ ও ভিশন চিহ্নিতকরণ

par 6প্রথমবারের মত নওগাঁর পত্নীতলায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো পত্নীতলা উপজেলা গণগবেষণা সমিতির সম্মেলন।   ‘যৌথ চিন্তা যৌথ শক্তি, সংগঠনে মুুুক্তি’ – এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ৪ এপ্রিল ২০১৫ পত্নীতলা উপজেলা অডিটোরিয়ামে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শাপলা গণগবেষণা সমিতির সভাপতি লাভলী চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পত্নীতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম শেফা, পাটিচরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল খালেক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক নওগাঁ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী বেলাল, একই কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, সুজন পত্নীতলা উপজেলা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব বুলবুল চৌধুরী, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর এলাকা সমন্বয়কারী আসির উদ্দীন, পাখি বিশারদ মনসুর সরকার, ভার্মি কম্পোস্ট চাষী ও গণগবেষক নাসির আহমেদ এবং আদিবাসি ফোরামের সভাপতি সুধীর তির্কী প্রমুখ।

Copy of par 6দুপুর ৩.০০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলন। স্বাগত বক্তব্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর গণগবেষণা ইউনিটের সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট, দারিদ্র্য দূরীকরণে গবেষণা কার্যক্রমের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এরপর শুরু হয় তৃণমূলের গণগবেষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে গণগবেষণা কার্যক্রম ও সংগঠন তৈরির মাধ্যমে তারা কীভাবে নিজেদের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধান করেন। গণগবেষণা সমিতি কীভাবে গড়ে তোলা হয়, এর মাধ্যমে গণগবেষকরা কতটা লাভবান হন, সমিতিগুলো দারিদ্র্য দূরীকরণে কতটা ভূমিকা রাখছে, গণগবেষণা কার্যক্রম ও গণগবেষণা সমিতিগুলোর ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ ও ভিশনগুলো কী এবং সমিতিগুলো কীভাবে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেতে পারে ইত্যাদি বিষয়গুলোও তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি আব্দুল হামিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর সহায়তায় আপনারা গণগবেষকরা আজ যেভাবে একত্রিত হয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করছেন তা দেখে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত। আপনাদের কাছ থেকে আমার অনেক কিছু শেখার রয়েছে। ভবিষ্যতে আপনাদের যে কেনো কার্যক্রমে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করবো।’ গণগবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধুমাত্র পত্নীতলার মানুষের জীবনমানের উন্নতিই নয়, বরং সারাদেশেরই উন্নতি সাধিত হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও বেলাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট পত্নীতলা উপজেলা গণগবেষণা ফোরাম গঠন করা হয়। সম্মেলনের শেষে ফোরামের নেতৃবৃন্দ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন এবং সম্মেলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে পত্নীতলা উপজেলা গঠিত। আর গণগবেষণা কর্মশালা ও রিপ্লেকশন কর্মশালার মধ্য দিয়ে সবগুলো ইউনিয়নেই গণগবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিজেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নিজদের নেতৃত্বেই সেগুলো সমাধানের লক্ষ্যে গণগবেষণা সমিতি গড়ে তোলে। বর্তমানে পত্নীতলায় ১২৪টি গণগবেষণা সমিতি রয়েছে, সে সমিতিগুলোর সদস্য সংখ্যা তিন হাজার তিন শ’ ৯৮ জন। ইতোমধ্যে সমিতিগুলোর মোট সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৮২ হাজার ১৭৭ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.