খুলনায় সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুুষ্ঠিত

Social Hermony (4)সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত হলে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে এবং ‘সামাজিক পুঁজি’ সৃষ্টি হয়। আর সামাজিক পুঁজি আর্থিক পুঁজির অপ্রতুলতা দূর করার অন্যতম উপায়। সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘সামাজিক আন্দোলন’ ও ‘সামাজিক প্রতিরোধ’ গড়ে তোলা গেলে অনেক সামাজিক সমস্যা অর্থকড়ি ছাড়াই সমাধান সম্ভব হয়। এমন পরিস্থিতিতে খুলনায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘টেকসই সামাজিক সম্প্রীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা। ৭ মে ২০১৫ খুলনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলহাজ্ব লোকমান হাকীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী সম্পাদক আহমেদ আলী খান। অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার তুহিন আফসারী। উল্লেখ্য, পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর জেলা সমন্বয়কারী মাহবুবুল আলম বুলবুল।

সভায় বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় টেকসই সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিতে করণীয় সম্পর্কে মতামত প্রদান করেন ডি কে মণ্ডল, সাদিক খান, মল্লিকা দাশ, শাকিল আহমেদ, সাইদুর রহমান, আহসান হাবীব, খাদিজা বেগম এবং রাজু প্রমুখ। সভায় বক্তারা এ কার্যক্রমকে স্বাগত জানান এবং এ কর্মসূচিকে আরও দ্রুততার সাথে এলাকার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন বলে মত দেন।

প্রধান আলোচক আহমেদ আলী খান বলেন, ‘এ কার্যক্রমের আওতায় সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ গ্রাম-শহরের সকল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাহলে খুব সহজেই অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’ তিনি তাঁর বক্তব্যে টেকসই সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জন্য সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার, একে অন্যের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন এবং সর্বোপরি স্বার্থান্বেষী মহলের কোনোরূপ প্ররোচনায় প্ররোচিত না হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রসঙ্গত, সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত করা এবং সহিংসতার পরিবর্তে সামাজিক বৈচিত্রতা বজায় রেখেই সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব- এমন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ‘Empowering Citizens to Promote Social Harmony’ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে। উল্লেখ্য, তৃণমূলের জনগণকে সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব ও বৃদ্ধির উপায় এবং একজন নাগরিকের অধিকার-কর্তব্য সম্পর্কে অবগত করার লক্ষ্যে এপ্রিল-জুন মাসে ১১১টি ইউনিয়নে ৯৯৮টি ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিকত্ব’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যে কর্মশালাগুলোতে ১৪ হাজার ২৯৭ জন নারী এবং ৯ হাজার ৮৭৯ জন পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নাগরিকের মধ্যে নাগরিকত্ব ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বোধ তৈরি হয়। একইসাথে তারা সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন এবং সকলে মিলে সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করে তা দূর করার জন্য প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।