সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিকত্ব বিষয়ক কর্মশালা: তৃণমূলের জনগণের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও নাগরিকত্ববোধ জাগ্রতকরণ

social-hermonyদি হাঙ্গার প্রজেক্ট ক্ষুধামুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে। আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি কখনও দরিদ্র থাকতে পারে না- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশে তৈরি করা হচ্ছে একদল স্বেচ্ছাব্রতী, যারা মানুষের প্রতি ভালবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এই সমস্ত স্বেচ্ছাব্রতীরাই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমাজে সম্প্রীতি তৈরিতে অনবদ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।

সামাজিক সম্প্রীতি বলতে সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বিরাজমান শারীরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভিন্নতার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে বোঝায়। এই ভিন্নতার মধ্য দিয়েই মূলত সমাজের মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। আর সম্প্রীতি বিরাজ করলেই সমাজ বিকশিত হয়।

আর সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত করা এবং সহিংসতার পরিবর্তে সামাজিক বৈচিত্রতা বজায় রেখেই সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব- এমন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে- ‘Empowering Citizens to Promote Social Harmony’ এ উদ্যোগটি। দি ডাইভারসিটি সেন্টার-এর সহায়তায় এ উদ্যোগটি দেশের ১১টি উপজেলা ও ১০৪টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ উদ্যোগের আওতায় তৃণমূলের ব্যাপক সংখ্যক মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেয়া এবং নাগরিকত্ববোধে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিকত্ব’ বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কর্মশালার শুরুতেই উপস্থিত সকলের ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় গ্রহণ করা হয়। এরপর ফ্লিপচার্টের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় ও সামাজিক বিভিন্নতা, সামাজিক বিভিন্নতা থাকলে কী লাভ হয়, সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ার উপায়, নাগরিক কী, রাষ্ট্র থাকায় নাগরিকের কী কী সুবিধা হয়, সংবিধান ও অধিকার, সক্রিয় নাগরিক কে ও তার দায়িত্ব-কর্তব্য এবং নাগরিক সক্রিয় হলে কী কী লাভ হয় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আলোচনার মধ্য দিয়ে কর্মশালায় উপস্থিত সকল নাগরিকের মধ্যে একটি নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও নাগরিকত্ববোধ জাগ্রত হয়।