শিশুবিবাহ বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারাভিযান

বাংলাদেশে ৬৬ শতাংশ কন্যাশিশু ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শিশুবিবাহের শিকার হয়, যারা বঞ্চিত হয় শিক্ষা ও পুষ্টিসহ অন্যান্য অধিকার থেকে। তাই কন্যাশিশুদেরকে শিশুবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে বৃহত্তর পরিসরে আলাপ-আলোচনা, সচেতনতা সৃষ্টি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই বাস্তবতায় শিশুবিবাহ বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর উদ্যোগে জনঅংশগ্রহণে গোলটেবিল বৈঠক, কর্মশালা, প্রচারাভিযান, গণনাটক ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

গোলটেবিল বৈঠক
child marriage২০ অক্টোবর, ২০১৪ বরিশাল শহরের মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় ‘শিশুবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪ ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি। উপস্থিত আলোচকবৃন্দ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিয়ের বয়স মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর রাখার পক্ষে মত দেন এবং শিশুবিবাহ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া ১৪ নভেম্বর, ২০১৪ ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন-এর উপস্থিতিতে এবং এবং নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলহাজ্ব শহীদুজ্জামান সরকার এমপি-এর উপস্থিতিতে ‘শিশুবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪ ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক দুটি গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালা
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নে ‘শিশুবিবাহ বন্ধে বিদ্যমান আইন ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম। বক্তব্য প্রদান করেন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মর্জিনা বেগম ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর খোরশেদ আলম। কর্মশালায় উপস্থিত ৬২ জন নারী-পুরুষ মনোহরপুর ইউনিয়নে শিশুবিবাহের বর্তমান অবস্থা, শিশুবিবাহ বন্ধে করণীয় সম্পর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এছাড়া ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ একই উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার বাহাদুর আলীর সভাপতিত্বে এবং ২০ নভেম্বর, ২০১৫ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রচারাভিযান
child marriage 2শিশুবিবাহ নিরোধ বিষয়ক প্রচারাভিযান-২০১৪ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি ইউনিয়নে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ব্র্যাক ও জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিলের সহায়তায় ১৭ নভেম্বর, ২০১৪ গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয় এমন একটি প্রচারাভিযান। পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

এছাড়া ২৩ নভেম্বর ২০১৪ ভুঞাপুর উপজেলার (টাঙ্গাইল) নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল-এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলালুজ্জামান সরকার ও ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হারেচ আলী মিঞার উপস্থিতিতে এবং ২৪ নভেম্বর ২০১৪ গোপালপুর উপজেলার (টাঙ্গাইল) হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে চেয়ারম্যান মোঃ হাবিজুর রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমিনা বেগম-এর উপস্থিতিতে, ২৭ নভেম্বর ২০১৪ ভুঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে চেয়ারম্যান মোঃ রহিজ উদ্দিন আকন্দ-এর সভাপতিত্বে এবং ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়নে এবং ২৬ নভেম্বর ২০১৪ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ডাউটিয়া রহিমা-হাফিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিশুবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়।

গণনাটক
‘শিশুবিবাহকে না বলুন’ – এ শিরোনামে ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার দাপুনিয়া, ভাবখালী, বয়ড়া, চর ঈশ্বরদিয়া ও কুষ্টিয়া ইউনিয়নে ২১টি গণনাটক প্রদর্শিত হয়। নভেম্বর ২০১৪ মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত এ নাটকগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৯,৪৫০ জন নারী-পুরুষকে শিশুবিবাহ বন্ধে সচেতন করা সম্ভব হয়। উজ্জীবকদের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘বিশ্বাসে সঠিক সমাজ’ নাটকগুলো পরিচালনা করে। এছাড়া উপরোক্ত পাঁচটি ইউনিয়নের সর্বমোট ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘কুইজ প্রতিযোগিতা’ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ৬,৫০০ শিক্ষার্থীকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা হয়। উক্ত প্রচারাভিযানের পর ইতিমধ্যে উক্ত পাঁচটি ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাঁচটি শিশুবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

উঠান বৈঠক
বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে স্থানীয় নারীদের অবগত করার লক্ষ্যে রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে এক উঠান বৈঠক পরিচালিত হয়। ১৮ অক্টোবর, ২০১৪ বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি পরিচালনা করেন নারীনেত্রী রেশমা বেগম। বৈঠকে উপস্থিত ৩০ জন নারী তাদের পরিবারের কাউকে শিশুবিবাহ না দেয়ার অঙ্গীকার করেন।