সফল উদ্যোগ: করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে কর মেলা আয়োজন

TAXইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ অনুযায়ী, ‘ইউনিয়ন পরিষদ… যে কোন কর, রেইট, টোল, ফিস ইত্যাদি নির্ধারিত পদ্ধতিতে আরোপ করিতে পারিবে।… এই আইনের অধীন আরোপযোগ্য সকল কর, রেইট, টোল বা ফিস নির্ধারিত ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায় করিতে হইবে।’ এমন আইন থাকা সত্ত্বেও করা আদায়, প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। যে কারণে বাজেটের পরিমাণ কম হওয়ায় সমাজ উন্নয়নমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না। স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় জনপ্রতিনিধিদের সামর্থ্য বিকাশ বিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাব উদ্দিন সরদার ও সদস্যগণ। প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এবং পরিষদকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার গুরুত্ব এবং পদ্ধতিগতভাবে কর আদায় সম্পর্কে ধারণা পান। প্রশিক্ষণ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে একটি কর মেলার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন এবং এ প্রক্রিয়া সর্ম্পকে স্থানীয় জনগণকে অবহিত ও সম্পৃক্ত করে নেন।

পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ অক্টোবর, ২০১৪ স্থানীয় চান্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় কর মেলা-২০১৪। সকাল ১১.০০টা থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত ব্যক্তিরা স্ব-উদ্যোগে বকেয়াসহ হালানাগাদ কর পরিশোধ করেন। দিনব্যাপী এ মেলায় ৭৫ জন ব্যক্তি ২৯,৭৪৩ টাকা কর পরিশোধ করেন। বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাব উদ্দিন সরদারের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মন্মথ রায়ের পরিচালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে মাটিয়াপুর গ্রামের আব্দুল কাদির প্রথম ও কাজুয়া গ্রামের আব্দুল মছব্বির সরদারকে দ্বিতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রতি ওয়ার্ড থেকে দু জনকে সর্বোচ্চ কর আদায়কারী হিসেবেও পুরস্কৃৃত করা হয়। পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর মেলা আয়োজন করায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০১৪ সালে কর আদায় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাব উদ্দিন সরদার বলেন, ‘আমরা জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, কর প্রদান না করলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে তাদের সেবা দেওয়া কঠিন। কারণ সরকারি বরাদ্দ একদম অপ্রতুল। তাই জনগণের একটি বড় অংশই কর মেলায় তাদের কর প্রদান করেছে। আমরাও (পরিষদ) আদায় হওয়া এ অর্থ স্বচ্ছভাবে জনগণের উন্নয়নে ব্যয় করবো।’

মেলায় কর প্রদানকারী উজ্জীবক মোঃ শাহীন মিয়া বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের কাজ জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান এবং আমাদের পরিষদ তা আন্তরিকভাবেই করছে। আমরা যারা জনগণ আছি তাদের অবশ্যই কর প্রদান করা উচিত, যাতে পরিষদ ভালভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.