“Empowering Citizens to Promote Social Harmony”: সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্যোগ

1সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত করে তাদের সক্রিয় করে তোলা এবং তাদের মধ্যে এই ঐকমত্য তৈরি করা যে, সহিংসতা পরিবর্তে সামাজিক বৈচিত্রতা (diversity) বজায় রেখেই সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব – এমন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট নিয়েছে নতুন একটি উদ্যোগ। উদ্যোগটি হলো- ‘‘EMPOWERING CITIZENS TO PROMOTE SOCIAL HARMONY’’, যেটি দি ডাইভারসিটি সেন্টার ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর যৌথ উদ্যোগে দেশের ১১টি উপজেলা সদর ও ১০৪টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হবে।

গত ১৩ জুলাই ২০১৪ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো নতুন এই প্রকল্পের পরিচিতি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ও এলাকা সমন্বয়কারীসহ সংস্থার দশ অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ে ৬১ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী আলোচনায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে আমাদের সুনাম দীর্ঘদিনের। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এই সম্প্রীতি নষ্ট হতে চলেছে। মূলত নাগরিকের সচেতনতার অভাবেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হলো নাগরিকদের সক্রিয় ও সচেতন করা। আর এই লক্ষ্য অর্জনকে সামনে রেখেই  ‘‘EMPOWERING CITIZENS TO PROMOTE SOCIAL HARMONY’’ উদ্যোগটি।’

উদ্বোধনী আলোচনার পরে উদ্যোগের সমন্বয়কারী ও সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার তুহিন আফসারী উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান এবং প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত ধারণা তুলে ধরেন।

_DSC0632প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ রাজধানীর আদাবরে অবস্থিত পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিকত্ব বিষয়ক কর্মশালা সহায়ক প্রশিক্ষণ’। প্রশিক্ষণে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর সকল ইউনিয়ন সমন্বয়কারী এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের সীতাকুন্ড উপজেলা ও কক্সবাজার-এর চার জন স্বেচ্ছাব্রতী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণটি উদ্বোধন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার।

প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রকল্প সমন্বয়কারী তুহিন আফসারী উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীগণ কর্মশালা পরিচালনায় দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশের ১০৪টি ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে সামাজিক স¤প্রীতির বার্তা নিয়ে যাবেন। শুধু তাই নয়, কর্মশালার মাধ্যমে তারা জনগণের মধ্যে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট স¤পর্কে ভাবনা, সামাজিক সম্প্রীতি বিকশিত করার উপায়, নাগরিকত্ব কী এবং নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ভাবনা তৈরিতে সহায়তা করবেন।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার ইউনিয়ন সমন্বয়কারীদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘সামাজিক সম্প্রীতি তৈরি করতে গেলে আমাদের ছয়টি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। এগুলো হলো-
১.    নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলা/অনুঘটক হিসেবে সক্রিয় থাকা;
২.    সকল স্বেচ্ছাব্রতীদের সক্রিয় রাখা;
৩.    ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত রাখার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানা সৃষ্টি করা;
৪.    সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করা;
৫.    সততার সাথে কাজ করা/দুর্নীতি মুক্ত থাকা;

প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট, এই প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা, গণজাগরণে কর্মশালার ভূমিকা ও  সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিকত্ব বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনার কৌশল বিষয়ে আলোচনা ও কর্মশালা উপস্থাপন ও লাইভ কোচিং প্রদান করা হয়।

কর্মশালার শেষ দিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ পুলিশ-এর সাবেক মহাপরিদর্শক জনাব এওয়াইবি সিদ্দিকী, ফর ইউ ফর এভার (For You For Ever- FYFE) এর চেয়ারম্যান জনাব রেহেনা সিদ্দিকী এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর উপ-পরিচালক (কর্মসূচি) জনাব নাছিমা আক্তার জলি প্রমুখ।

_DSC0660কর্মশালায় এওয়াইবি সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা সামাজিক বৈচিত্রতা বজায় রেখেই সম্প্রীতি চাই। কারণ সৃষ্টিকর্তাই মানুষের মধ্যে বৈচিত্র দিয়েছেন। কাউকেই অবজ্ঞা নয়, কারণ পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণীই কোন না কোন ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে খারাপ মানুষের সংখ্যা কম। তাই সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এই খারাপ মানুষগুলোর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হতে হবে।’

জনাব রেহেনা সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য সমাজে বিরাজমান দ্বন্দ্ব-সংঘাত দূর করা আবশ্যক। আলাপ-আলোচনা ও সম্প্রীতি দিয়ে সামাজিক দ্বন্দ্বগুলো নিরসন করতে হবে। আমাদের বিভিন্ন বর্ণগত ও ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু সবার আগে আমরা মানুষ। আমাদের সমাজে অনেক ভাল মানুষ আছে। তাদের কাজে লাগাতে হবে। আমাদের অনুধাবন করতে হবে, সমাজে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বজায় রেখে আমরা সমানে এগিয়ে যেতে পারবো না।’

জনাব নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘নাগরিকদের দায়িত্ব ও অধিকার বোধ থেকে সচেতন ও সক্রিয় করার মধ্য দিয়ে একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ তৈরি করাই হবে এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৯৩৮টি কর্মশালার আয়োজন করা হবে এবং ৬০ হাজার মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়া হবে।’ এ সময় তিনি এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য উপস্থিত ইউনিয়ন সমন্বয়কারীগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সহায়ক হিসেবে প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার (প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান) জনাব জমিরুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার (গণগবেষণা ইউনিট) আজাদ আবুল কালাম ও প্রোগ্রাম অফিসার (প্রশিক্ষণ বিভাগ) তনুজা কামাল। এছাড়াও মনিটরিং ইউনিটের কাজী ফাতেমা বর্নালী এবং ইয়ূথ মোভিলাইজেশন ইউনিটের জান্নাতুল ফেরদৌস ঈভা হোম গ্রুপ পরিচালনায় সহায়তা প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.