সফলতার গল্প: নকশি কাঁথা সেলাই করে সচ্ছল নারীনেত্রী প্রভাতি হালদার

Provati Haldarপ্রভাতি হালদার। বাগেরহাট জেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা। বছর খানেক আগেও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে কোনরকমে দিন কাটতো তার পরিবারের সদস্যদের। নানাবিধ চিন্তা আর সমস্যায় প্রভাতি হালদার ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কিন্তু বর্তমানে অবস্থা আর নেই। কারণ এখন তিনি সচ্ছল।

স্থানীয় নারীনেত্রীগণের আমন্ত্রণে তিনি বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক আয়োজিত ৮৩তম ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রভাতি হালদার যেন নিজের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি ফিরে পান। ‘আমিও মানুষ, আমিও আর দশজন মানুষের মত স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারি’ – এই প্রত্যয় সামনে রেখে নতুন করে তার পথচলা শুরু হয়।

আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে আয়বৃদ্ধিমূলক কাজের সন্ধান করতে থাকেন প্রভাতি হালদার। এ সময় তিনি নকশি কাঁথা সেলাইয়ের ওপর দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে নকশি কাঁথা সেলাই শুরু করেন। প্রথমে নিজে এ কাজ করলেও বর্তমানে প্রভাতি হালদার আরও কয়েকজন নারীকে সাথে নিয়ে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নকশি কাঁথা বিক্রয় করে প্রতিমাসে তার ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রভাতি হালদার নিজ পরিবারে নিয়ে এসেছেন আর্থিক স্বচ্ছলতা।

প্রভাতি হালদার জানান, ‘নারী নেতৃত্ব বিকাশ’ প্রশিক্ষণই তার জীবন বদলে দিয়েছে। এ প্রশিক্ষণ থেকেই তিনি পেয়েছেন বেঁচে থাকার দৃঢ় মানসিকতা। শিখেছেন মানুষ চাইলেই তার আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে নিজের জীবনে আনতে পারে পরিবর্তন। সমাজ উন্নয়নে রাখতে পারে ভূমিকা।