ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর অংশ্রগ্রহণ

Nutrition Conferenceদক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে। শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা নানা বিষয়ের সাথে জড়িত যেমন, দারিদ্র্যতা, অসম খাদ্য বণ্টন, জেন্ডার অসমতা ইত্যাদি। যদি নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে এই অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূর করা  এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে পুষ্টিহীনতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিদ্যমান থেকে যাবে।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নানা ধরনের কার্যকর নীতিমালা, কৌশল ও কর্মসূচি চালু রয়েছে, যা শিশুদের পুষ্টিহীনতার হারকে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিদ্যমান এ সকল কার্যকর  নীতিমালা, কৌশল ও কর্মসূচি বিনিময় করা এবং দক্ষিণ এশিয়াতে পুষ্টিহীনতার হারকে কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গত ৩০-৩১ জুলাই ২০১৪, ইন্ডিয়া হেবিটেট সেন্টার, নয়াদিল্লি, ভারত-এ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘সাউথ এশিয়া কনফারেন্স অন পলিসিস এন্ড প্র্যাকটিসেস টু ইমপ্রুভ নিউট্রিশন সিকিউরিটি’ শীর্ষক এক সম্মেলন।

Nutrition Conference 2দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ছাড়াও আমেরিকা, কানাডা, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মোট ৩৪০ জন অংশগ্রহণকারী উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করেন জনাব নাছিমা আক্তার জলি- উপ-পরিচালক (প্রোগ্রাম), দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ।

ভারতের ‘গ্রীন রেভ্যুলেশন’-এর অন্যতম উদ্যোক্তা অধ্যাপক স্বামীনাথন সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনটি দশটি থিমকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। থিমগুলো হলো- 1. Nutrition through Life Course; 2. Nutrition Education and Innovations; 3. Community Nutrition Programs; 4. Nutrition from Nature; 5. Gender and Equity in Nutrition; 6. Nutrition Monitoring; 7. Nutrition Policies and Programs; 8. Humanitarian crisis and nutrition; 9. Role of Corporate social responsibility in Nutrition; 10. Media engagement to promote nutrition.

উপরোক্ত দশটি থিমের মধ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে জনাব নাছিমা আক্তার জলি ২, ৩, ৪, ৫ ও ১০নং থিমে অংশগ্রহণ করেন। থিমের সেশনগুলোতে বিভিন্ন সংগঠন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের পরিচালিত নানা রকমের কর্মসূচির আলোকে পেপার উপস্থাপন করে।

সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল পোস্টার উপস্থাপন। জনাব নাছিমা আক্তার জলি সম্মেলনের ২নং থিম Nutrition Education and Innovations-এর অধীন “Grassroots Women Leaders as Change Agents for 1000 Days Nutrition” শিরোনামে একটি পোস্টার উপস্থাপন করেন। এছাড়া তিনি পোস্টারের বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরিকৃত একটি ব্রশিয়ারও উপস্থিত সকলের মাঝে বিতরণ করেন।

প্রসঙ্গত, মা ও শিশুর অপুষ্টি রোধে আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত এক হাজার দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক ২০১৩ সাল থেকে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে ‘প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবার্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য হলো- স্বেচ্ছাশ্রমে আত্মনিবেদিত তৃণমূলের নারীনেত্রীদের পরিচালনায় গর্ভবতী নারী ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি, নবজাতক ও শিশুর কাম্য মাত্রার খাবার এবং পুষ্টি সম্পর্কে ধারণা দেয়া। জনাব নাছিমা আক্তার জলি তার উপস্থাপিত পোস্টারে মূলত উপরোক্ত কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কীভাবে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে সম্মেলনে ‘দিল্লি ডিক্লারেশন’ নামে একটি সুপারিশমালা গ্রহণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.