খুলনা অঞ্চলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা বিষয়ক উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ইতিবাচক অর্জন: কিছু কেস স্টাডি

enaআন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এমডিজি-এর অন্যতম লক্ষ্য শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে এবং শিশুর অপুষ্টি রোধে আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত এক হাজার দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা অঞ্চলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবার্তা বিষয়ক উঠান বৈঠক কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে। উঠান বৈঠকগুলোতে নারীর পুষ্টি উন্নয়ন; নারী ও শিশুদের রক্তস্বল্পতা রোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রণ ও ফলিক এসিডের ব্যবস্থা করা; বাড়ির সকল সদস্যের পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ নিশ্চিত করা; শিশুর জন্মের প্রথম ছয় মাস পযর্ন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করা; শিশুর ছয় মাস পূর্ণ হলে বাড়তি খাবার দেওয়া এবং সেই সাথে দুই বছর বয়স পযর্ন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া; অসুস্থ ও অসুস্থতা পরবর্তী শিশুদের জন্য যথাযথ খাদ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করা; এবং নারী ও শিশুদের ভিটামিন-এর ঘাটতি রোধ করা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা বিষয়ক উঠান বৈঠক পরিচালনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে বেশ ইতিবাচক অর্জন সাধিত হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি কেস স্টাডি তুলে ধরা হলো-
১.    রঞ্জু বেগম, গ্রাম: সুন্দরঘোনা, ইউনিয়ন: ষাটগম্বুজ, উপজেলা ও জেলা: বাগেরহাট
রঞ্জু বেগম। বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নারীনেত্রী কামরুন নাহার পলি এবং জেবুন্নেসা-এর পরিচালনায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা বিষয়ক উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে গর্ভবতী মা রঞ্জু বেগম নারী ও শিশুদের পুষ্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে অবগত হন। তিনি পরের দিন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বাগেরহাট শহরে অবস্থিত কাজী ক্লিনিকে গমন করেন। ডাক্তার তাকে বলেন যে, আপনি সময় মত ক্লিনিকে এসেছেন। দেরি করলে আসলে আপনার শারীরিক সমস্যা হতে পারতো, কারণ আপনার পেটে যমজ সন্তান। পরবর্তীতে রঞ্জু বেগম ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং কাজী ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে দুটি সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে তিনি এবং তার সন্তানেরা সুস্থ আছেন। তিনি ধন্যবাদ জানান দি হাঙ্গার প্রজেক্টর-এর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা বিষয়ক কার্যক্রমকে। তিনি মনে করেন, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে পুষ্টি বিষয়ে অবগত না হলে তিনি কখনও ডাক্তারের চিকিৎসা গ্রহণ করতেন না।
২.    আরিফা খাতুন, গ্রাম: বন্ধকাঠি, ইউনিয়ন: বিষ্ণুপুর, উপজেলা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বন্ধকাঠি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা আরিফা বেগম। তিনি এবং তার শ্বাশুড়ি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর নারীনেত্রীদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত পুষ্টি বিষয়ক একটি উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণ করার পর থেকে প্রতিবেলা খাবার সময় তিনি এক মুঠ বেশি চালের ভাত এবং এক চামছ বেশি ডাল গ্রহণ করতেন এবং তার শ্বাশুড়ি তা নিশ্চিত করতেন। কারণ উঠান বৈঠকের মাধ্যমে আরিফা বেগম ও তার শ্বাশুড়ি জানতে পারেন যে, অন্তঃসত্তা অবস্থায় ৩০০ ক্যালরি খাবার এবং সন্তান প্রসব করবার পর ৫০০ ক্যালরি বেশি খাবার গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নিয়মিত আয়রণ ট্যাবলেট এবং দুপুরের খাবারের পর বিশ্রাম নিতে হবে। অবশ্যই ক্লিনিকে বা দক্ষ দাই-এর মাধ্যমে সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সকল নিয়ম মেনে চলার কারণে আরিফা খাতুন এবং তার সন্তান বর্তমানে সুস্থ আছেন।
৩.    হাজেরা বেগম, গ্রাম: রণভূমি, ইউনিয়ন: ষাটগম্বুজ, উপজেলা ও জেলা: বাগেরহাট
বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের রণভূমি গ্রামের বাসিন্দা হাজেরা বেগম। তিনি নারীনেত্রী নাসিমা বেগম এবং ইয়াসমিন আক্তারের পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বার্তা বিষয়ক উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে হাজেরা বেগম ও তার শ্বাশুড়ি পুষ্টি সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে অবগত হন। পারিবারিক অবস্থা অসচ্ছল থাকা সত্ত্বেও হাজেরা বেগমের পরিবার তাকে বাগেরহাটের মাতৃ ও শিশু মঙ্গল কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং বাগেরহাটের মাতৃ ও শিশু মঙ্গল কেন্দ্রে সুস্থ শিশু সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে তিনি এবং তার সন্তান সুস্থ আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.