নাগরিকত্ব কর্মশালা

কর্মশালার পটভূমি:
সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে জাতিগতভাবে আমাদের সুনাম দীর্ঘদিনের। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এই সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে চলেছে। মূলত নাগরিকের সচেতনতার অভাবেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হলো নাগরিকদের সক্রিয় ও সচেতন করা। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিকত্ব বিষয়ক কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে এই ঐকমত্য তৈরি করা যে, সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত করে তাদের সক্রিয় করে তোলা এবং তাদের মধ্যে সহিংসতার পরিবর্তে সামাজিক বৈচিত্র বজায় রেখেই সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর উদ্যোগে এই কর্মশালা পরিচালিত হচ্ছে।

কর্মশালার উদ্দেশ্য:
আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় অংশগ্রহণকারীদের নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা, যাতে তারা নাগরিকত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও উন্নয়নের অংশীদার হতে পারে।

কাঙ্ক্ষিত ফলাফল:
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা–
(১) সামাজিক বিভিন্নতা একটি সামাজিক বাস্তবতা। এটি থাকলে কী কী লাভ হয় এবং এই বিভিন্নতার কারণে কখন দ্বন্দ্ব তৈরি হয় তা বর্ণনা করতে পারবেন;
(২) সামাজিক সম্প্রীতি কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় তা বলতে পারবেন;
(৩) ‘নাগরিকত্ব’ ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পারবেন এবং নাগরিকত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হবেন, রাষ্ট্র কীভাবে গঠিত হয় এবং রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের স¤পর্ক কী তা বর্ণনা করতে পারবেন;
(৪) আমাদের সংবিধানে কী কী নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা এবং কী কী মৌলিক চাহিদার স্বীকৃতি দেয়া আছে তা বলতে পারবেন;
(৫) আমাদের মৌলিক অধিকার ও মৌলিক চাহিদা পূরণের বর্তমান অবস্থা কী এবং কেন এই হতাশাজনক অবস্থা তা ব্যাখ্যা করতে পারবেন;
(৬) সক্রিয় নাগরিক কে, সক্রিয় নাগরিকের দায়িত্ব-কর্তব্যসমূহ কী কী তা বলতে পারবেন এবং নিজেকে সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হবেন।