দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী বিরাজমান ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূরীকরণের ব্রত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের জন্ম। একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা হিসেবে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়াসহ এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার ২২ টি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত। বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে এনজিও ব্যুরোর রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তির মাধ্যমে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ কাজ শুরু করে।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট গতানুগতিক কোন এনজিও বা দাতা সংস্থা নয়। এটি একটি বিশ্বাস, একটি প্রতিশ্রুতি ও একটি সামাজিক আন্দোলন। বিশ্বাসটি হলো, প্রতিটি মানুষ অমিত সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। জন্মগতভাবে প্রাপ্ত সেই অমিত সম্ভাবনাই তাকে করতে পারে দারিদ্র্যমুক্ত এবং আত্মনির্ভরশীল। মানুষ যদি তার ক্ষমতার সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ পায়, সে যদি আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়, তাহলে সে নিজেই তার ভাগ্যোন্নয়নের দায়িত্ব নিতে পারে। নিজ ভবিষ্যতের কারিগর হতে পারে। এ চেতনাবোধ থেকেই দি হাঙ্গার প্রজেক্ট সারা বাংলাদেশে একটি গণজাগরণ সৃষ্টি করতে প্রতিশ্রতিবদ্ধ। যার লক্ষ্য সমাজের প্রতিটি মানুষকে উজ্জীবিত ও সংগঠিত করা। একজন উজ্জীবক ও সংগঠিত মানুষ নিজের জীবনের হাল নিজেই ধরতে পারবে। নিজের অবস’ান থেকে নিজস্ব সম্পদকে প্রাথমিক পুঁজি করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করতে একক বা সমাজের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তৃণমূল পর্যায়ের অনুপ্রেরণাময় কিছু উদ্যোগ:
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট সরাসরি কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। তবে মানুষকে এমনভাবে ক্ষমতায়িত করে যাতে তারা তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেরাই কর্মসূচি বেছে নিতে পারে। তেমনি কিছু সফল কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগের বর্র্ণনা নিচে দেয়া হলো:

  • নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউনিয়নভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় উজ্জীবকরা ইউনিয়নব্যাপী একক ও দলবদ্ধভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, আয়বৃদ্ধি, নারী উন্নয়ন তথা সার্বিক অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে গুরুত্বর্পূণ অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। খুলনায় বটিয়াঘাটা, মাদারীপুরের কবিরাজপুর, সাতক্ষীরায় বিষ্ণুপুর, রমজাননগর, রাজবাড়ীর মৌগাছি, সারদা, রংপুরের কোলকোন্দ, কাবিলপুর, লালমনিরহাটের মদাতী, গোড়ল, জয়পুরহাটের ভাদসা, গাইবান্ধার মুক্তিনগর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার গোর্কণ, সরাইল, লালপুর, কুমিল্লার শ্রীপুর, নাঙ্গলকোট, টাঙ্গাইলের গয়হাটা, নাগবাড়ী, ময়মনসিংহের সিংরাইল, গাজীপুরের গাছা এবং মানিকগঞ্জ জেলার বানিয়াজুরিসহ অনেক ইউনিয়নে গণকেন্দ্রিক উন্নয়নে দৃষ্টান্ত সৃষ্টির উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে
  • বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক উজ্জীবকের অনুপ্রেরণায় স্বল্পবিত্তের জনগণকে নিয়ে সারাদেশের ১,৫০০’র অধিক স্থানীয় সংগঠন গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সঞ্চয় সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনগুলো তারা নিজেরাই পরিচালনা করে। সংগঠনের সদস্যগণ নিয়মিত সভা করে এবং নিজেদের সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবকরা সারাদেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং মান উন্নয়নে অসংখ্য উদ্যোগ পরিচালনা করছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশু, নারী ও বযস্ক মানুষদের মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে উজ্জীবকদের পরিচালনায় শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো, কুমিল্লার লাকসাম গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, প্রগতি পাঠশালা, কালিয়াচোঁ কিন্ডারগার্টেন, নাটোরের খুবজীপুরের সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন ও মেধাবিকাশ কোচিং সেন্টার, নওগাঁর পয়না ও মৈনম ফ্রি কোচিং, ঠাকুরগাঁও-এর হোসেনগাঁয় ঝরে পড়া শিশু শিক্ষা স্কুল, ঢাকার খিলগাঁওয়ে প্রচেষ্টা ও নাগদাপাড় ফ্রি স্কুল, গেণ্ডারিয়ায় সুবানিশি স্কুল, খুলনার বটিয়াঘাটার মাইটাভাঙ্গা গণ শিক্ষা কেন্দ্র, হেতালবুনিয়া বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও কোচিং সেন্টার, রক্তিম রবি পাঠশালা, বাগলডোঙ্গা বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গড়ে উঠা ১৭টি ফ্রি কোচিং সেন্টারসহ আত্মশক্তিতে বলিয়ান হয়ে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর সহযোগিতায় কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সারাদেশে হাজার হাজার নারী-পুরুষ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়েছে।

2 comments

  1. PIUS DCOSTA

    Participant of 1996 batch. I wishing all the catalyst to work for better future of Bangladesh.

  2. Saidur Rahman

    I want to work for Hunger Project Bangladesh as I can. Some one help me to join

Leave a Reply to Saidur Rahman Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.